perm_phone_msgUNDER ATTACK?

Top Categories

Spotlight

Brahmins caste

today20 May, 2022

Sanaton + Others Aditta Chakraborty

ব্রাহ্মণের ঘরে জন্ম নিলেই ব্রাহ্মণ হয়, কর্মসূত্রে ব্রাহ্মণ হয় না ব্রাহ্মণ বিদ্বেষগণ

বর্ণাশ্রম (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শুদ্র) জন্মগতই তার সর্ব প্রকার শাস্ত্র প্রমাণ । শ্রুতি প্রমাণ – কৃষ্ণ যজুর্বেদীয় আপস্তম্ভ ধর্ম সূত্র ( ৪,৫,৬) চত্বারো বর্ণা ব্রাহ্মণক্ষত্রিয়বৈশ্যশুদ্র: ( ৪) তেষাং পূর্ব: পূর্বী জন্মত: শ্রেয়ান্ ( ৫) অশুদ্রাণামদুষ্টকর্মণামূপায়নং বেদাধ্যয়নমগ্নয়াধেয়ং ফল বন্তি চ কর্মাণী (৬) অর্থ – বর্ণ চারটি ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , বৈশ্য [...]


সত্যকাম জাবাল এর জন্ম মীমাংসা

Sanaton + Others Protap Chakraborty today22 April, 2022 11

Background
share close

ঘোরতর কলি সমাগত! নিশার ব্যাপ্তিকালে দিনমণি নিষ্প্রভ প্রায়। যেন ঘোর তমিস্রার সূচনা! তমিস্রাই কলি, অজ্ঞানতাই কলি! জীব- বিবেকের নিদ্রাকালই কলি। বিধাতার রচনা অদ্ভুত, কালের গতিও অলংঘণীয়- কালের দোর্দ্দণ্ড প্রতাপ রোধ করিবে- এমত সাধ্য বা শক্তি কাহার? কালের আবর্ত্তনে- জীব কলির করাল গ্রাসে পতিত হইয়া চার্ব্বাক প্রভাবান্বিত জড় দর্শনে মোহিত, ভ্রষ্ট,তাপিত ও সন্তপ্ত। লোকায়ত দর্শন সমগ্র সমাজকে গ্রাস করিয়াছে। মনুষ্য আপন বিবেকবোধ, তদসহিত বিচারবোধও বিসর্জ্জন দিয়াছে নাস্তিক মতপ্রভাবে। নিঃদারুণ সত্য হইলেও- চার্ব্বাকসূত্রকর্ত্তার গৌণ উদ্দেশ্য পূরণ হইতে চলিয়াছে-নিস্তার অতীব দূরে, পাঞ্জেরীর আশাও নিত্তান্ত দূরাশা! ভারত সন্তানগণ বর্ত্তমানে নীতিভ্রষ্ট, বিবেকভ্রষ্ট ও দূর্ব্বল চরিত্রাধিকারী দাসের জাতিতে পরিণত হইয়াছে। তাঁহারা তাঁহাদিগের পূর্ব্বপুরুষদের সঞ্চিত তেজোপরি টিকিয়া রহিয়াছে, স্বসম্বল বলিতে কেবল জড়বুদ্ধি। সারমর্ম্ম- “এক পাত্রে ভোজন করিব এক পাত্রে পান করিব সমান ভাবে সুখ বন্টন ও ভোগ করিব-ইহা করিব উহা করিব বলিয়া মানবতার চর্চ্চায় ধর্ম ও শাস্ত্রের ষোড়শ ক্রিয়া সারিব- কেবলমাত্র- দরিদ্র নারায়ণ সেবায় সমান ভাবে খাইতে,পানার্থে, সুখার্থে ভোজন, পানীয়, অর্থ দান করিবার সময় আসিলেই, নারায়ণের জাত উদ্ধার করিয়া আপনাকে আফিমখোর কমলাকান্ত স্যাব্যস্ত পূর্ব্বক গণ্ডারের চামড়াখানি রক্ষা করিব”।
যাহা হউক, বহুকথা বলিয়া দুঃখ করিবার কারণ- শাস্ত্রাদির প্রতি শ্রদ্ধাতো বহু পূর্ব্বেই ছাদনাতলের শ্রাদ্ধবাসরে মুক্তি লাভ করিয়াছিল, কিন্তু এক্ষণে আবার ব্রহ্মলোক হইতে শাস্ত্রসমূহকে নামাইয়া আনিয়া পুনরায় গয়াশ্রাদ্ধ করিবার যেরূপ শোরগোল উঠিয়াছে, উহা সন্দর্শনে বিলাপ না করিয়া উপায় কি? বলিতে পার-
“ঠাকুর! হাঁড়িকাঠে মস্তকতো ঢুকাইয়াই রাখিয়াছ?! খড়্গ নামিলেই তো -মাতৃভোগায় নমঃ! মাতৃভোগে নাহি যাও কোর্মা কোপ্তা হইবে তাহাতে সন্দেহ নাই। অতএব বৃথা বিলাপে কি কাজ? ”
বলিতে হয়- অজাপুত্র হোক আর ব্যাঘ্রশাবক- হাঁড়িকাঠে ঢুকিলেও ম্যাঁ ম্যাঁ ঘোঁত ঘোঁত করিয়া শেষ চেষ্টা চালাইয়া যায়। আমরাও জয় মা বলিয়া রসাতলে যাত্রা করিব, চিন্তা করিয়া কি হইবে? ইচ্ছাময়ীর ইচ্ছা সব।বলা তো যাইতেছে না, হয়তোবা- শেষমূহুর্তে রজ্জু কর্তন করিয়া মুক্ত প্রান্তরে বিচরণ করিবার সুযোগ প্রদান হেতু দয়া করিতে পারে। ধর্মের ঘোল আর মৎস্যের ঝোল, উভয়তে কোনপ্রকার পার্থক্য নাই। ঘোলের স্বাদ লইলেও দুগ্ধ পানের বাসনা পূরণ হইবে কি?

কলিতে হরিদাস পালগণই শাস্ত্রকর্ত্তা, বিধায়ক – অবশিষ্ট অতীত আচার্য্য মহোদয়গণ কেসি পাল ছত্রশালা হইতে ক্রীত ছত্রবহন কারণে- হরিদাস পাল মহাশয়দের বিচারে, শাস্ত্র বিরোধী অপগণ্ড খেতাব অর্জ্জন করিয়াছেন। পাল-পীড়নে শাস্ত্রমাতা উদ্বাস্তু হইয়া পরবাসে, প্রাচীনানুসারীগণ হাঁড়িকাঠে, নব্যগণ পণ্ডিতগণ বাতাসালোকে গমন করিতেছেন! বাতাসানন্দ প্রেমানন্দে হরির বোল দিয়া- প্রেমানন্দে ধন্য হওয়া ব্যাতীত গত্যন্তর দেখিতেছি না। দুঃখ করিবার কারণ- পর্য্যবেক্ষণ করিয়া দেখিলাম- অন্তর্জ্জালের নানা প্রান্তে নানা কোণে নানা পত্রে ভগবান সত্যকামকে গণিকাপুত্র হিসেবে জাহির করিবার একখানি জোর অপচেষ্টা বিদ্যমান তদসহিত চলমান! কলির কি অমোঘ প্রভাব! প্রভাব দেখিয়া হরিকীর্তন ছাড়িয়া কলি কীর্তন করিতে অন্তরে বড় বাসনা জাগিয়া উঠে! কিন্তু উপায় নাই! মর্কটদিগের ন্যায় চারি প্রহরে পয়সা আয় না হইলেও কেবল অন্নের আশা থাকিলেও বিচিত্র অঙ্গ ভংগীপূর্ব্বক নর্ত্তন-কুর্দ্দন করা যাইতো, অধিক কি – অধিবৃত্তি হিসেবে কলিকূলের ঘটক হইতেও আপত্তি ছিল না! এক্ষণে উক্ত সুবিধা যেহেতু নাই ধান ভাংগিতে শিবের গীত গাহিয়াও লাভ নাই।

প্রবন্ধে তাঁহাদের যুক্তিখণ্ডন করিবার জন্য যথাসাধ্য আলোচনা করিয়াছি। বিবেচনা, সমালোচনা পাঠক মহোদয়গণের হস্তে।

আমরা এক্ষণে সত্যকাম বিষয়ে ছান্দোগ্যের বহুল আলোচিত শ্লোকসমূহ দর্শাইবো-
সত্যকামো হ জাবালো জবালাং মাতরমামন্ত্রযাং চক্রে ।
ব্রহ্মচর্যং ভবতি বিবত্স্যামি কিংগোত্রো ন্বহমস্মীতি ॥ ইতি ছান্দোগ্যে ॥

সা হৈনমুবাচ ।
নাহমেতদ্বেদ তাত যদ্গোত্রস্ত্বমসি ।
বহ্বহং চরন্তী পরিচারিণী যৌবনে ত্বামলভে ।
সাহমেতন্ন বেদ যদ্গোত্রস্ত্বমসি ।
জবালা তু নামাহমস্মি ।
সত্যকামো নাম ত্বমসি ।
স সত্যকাম এব জাবালো ব্রুবীথা ইতি ॥ ইতি ছান্দোগ্যে ॥

স হ হারিদ্রুমতং গৌতমমেত্যোবাচ ।
ব্রহ্মচর্যং ভগবতি বত্স্যামি ।
উপেযাং ভগবন্তমিতি ॥
তং হোবাচ কিংগোত্রো নু সোম্যাসীতি ।
স হোবাচ ।
নাহমেতদ্বেদ ভো যদ্গোত্রোঽহমস্মি ।
অপৃচ্ছং মাতরম্ ।
সা মা প্রত্যব্রবীদ্বহ্বহং চরন্তী পরিচরিণী যৌবনে ত্বামলভে ।
সাহমেতন্ন বেদ যদ্গোত্রস্ত্বমসি ।
জবালা তু নামাহমস্মি ।
সত্যকামো নাম ত্বমসীতি ।
সোঽহং সত্যকামো জাবালোঽস্মি ভো ইতি ॥ ইতি ছান্দোগ্যে ॥

তং হোবাচ নৈতদব্রাহ্মণো বিবক্তমুর্হতি সমিধং সোম্যাহরোপ ত্বা নেষ্যে ন সত্যাদগা ইতিঃ। তমুপনীয় কৃশানামবলানাং চতুঃশতা গা নিরাকৃত্যোবাচেমাঃ সোম্যানুসংব্রজেতি, তা অভিপ্রস্থাপয়ন্নুবাচ না সহস্রেণাবর্ত্তয়েতি; স হ বর্ষগণং প্রোবাস তা যদা সহস্রং সম্পেদুঃ॥ ইতি ছান্দোগ্যে ॥

সত্যকাম অতঃপর হারিদ্রুমত পুত্র হারিদ্রুমত গৌতম নামক আচার্য্য নিকট গমন করিলেন-

সত্যকাম বলিলেন- “ হে আর্য্য! ভগবন্‌! আমি আপনার নিকট ব্রহ্মচর্য্য অনুশীলন করিতে বাসনা করিয়াছি। উক্ত কারণে পূজনীয় আপনার নিকট আসিয়াছি।”
গৌতম জিজ্ঞাসিলেন- “পুত্র! তুমি কোন গোত্র জাত?”
সত্যকাম বলিলেন- “হে ভগবন্‌! আমি কোন গোত্র জাত ইহা আমি জানিনা। মদীয় মাতাকে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম তিনি বলিয়াছেন- “আমি বহুলোক পরিচর্য্যা বহুতর কর্ম্মে ব্যাপ্ত থাকিয়া যৌবন সময়ে তোমাকে প্রাপ্ত হইয়াছিলাম। পরন্তু- আমি জাবালা, তুমি মৎ পুত্র সত্যকাম।” হে আচার্য্য! আমি জাবালা পুত্র সত্যকাম। জাবালা সত্যকাম!
[আদিগুরু পরমপূজ্য আচার্য্যদেব শঙ্করের ভাষ্যের বঙ্গানুবাদানুযায়ী – স্বামীগৃহে অতিথি-অভ্যাগতাদির বহু পরিচর্য্যা করিতে করিতে আমি পরিচারিণী অর্থাৎ পরিচর্যাশীলাই ছিলাম। ঐ পরিচর্যা-কার্য্যে ব্যগ্রচিত্ত থাকায় গোত্রাদি-চিন্তায় আমার মন ছিলনা। আর সেই সময় আমার যৌবনকাল; সেই যৌবনেই তোমাকে লাভ করিয়াছিলাম; সেই সময় তোমার পিতাও মারা যান [ তদৈব তে পিতা উপরতঃ ] এবং আমি অনাথা (হইয়া পরি)। স্ক্রীণশট দ্রষ্টব্য।

এখানে পরমপূজ্য শঙ্করাচার্য্য জবালাকে স্বামীগৃহে অতিথিপরায়ণতার বহুকর্মে পরিব্যপ্ত পরিচর্যাকারিণী হিসেবে একজন আদর্শ নারী হিসেবে প্রকাশ করেছেন শ্রুতির অভিধার্থে। এমন কি এও বলেছেন — যে পিতা মারা গেছেন এবং তিনি (জবালা) অনাথা – এর দ্বারা এও প্রতিপন্ন হয় যে তিনি বালকের পিতাকে জানেন কিন্তু তাঁর গোত্রাদি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান নেই যেহেতু তিনি স্বামীগৃহে পরিচর্য্যা-কর্মেই মগ্ন ছিলেন যা সতী নারীর প্রকৃত কর্ম।]

ভগবন্‌ গৌতম বলিলেন- “হে পুত্র! ব্রাহ্মণ ব্যাতীত এরূপ সত্য কথা কেহ দৃঢ়তার সহিত বলিতে পারে না। হে সৌম্য! তুমি সমিধ আহরণ কর! আমি তোমাকে উপনীত করিব। কারণ তুমি সত্য হইতে স্খলিত হও নাই।”
[এখন প্রশ্ন – পিতৃ-গোত্র সম্বন্ধে অজ্ঞ ব্যক্তিকে ব্রাহ্মণ বর্ণভুক্ত করার শাস্ত্রবিধি কি মহর্ষি গৌতম পালন করলেন? ধর্মাধর্ম সম্পর্কিত বিধি-নিষেধ-অনুশাসনাদি সম্পর্কে স্মৃতি নির্দেশ পালনীয়। আসুন দেখি পিতৃপরিচয় অজ্ঞ ব্যক্তির বর্ণ নির্ধারণ সম্পর্কে মহর্ষি মনু কি বিধান দিয়েছেন —

সঙ্করে জাতয়স্ত্বেতা পিতৃমাতৃপ্রদর্শিতাঃ।
প্রচ্ছন্না বা প্রকাশা বা ব্যদিতব্যাঃ সকর্ম্মভিঃ।।
#মনুস্মৃতি – ১০/৪০ নং শ্লোক
অনুবাদ – মাতা-পিতার নাম নির্দেশপূর্ব্বক এই সকল জাতি বলিলাম; যাহাদিগের মাতাপিতার নাম জানা যায় না এমত গুঢ় কিম্বা প্রকাশ্য জাতির কর্ম্মদ্বারা জাতির নির্ণয় জানিবে। স্ক্রীণশট দ্রষ্টব্য।

অতএব – মনুর বিধানানুসারে মহর্ষি গৌতম শাস্ত্রসম্মতভাবেই সত্যকামের সত্যনিষ্ঠতা, এই কর্মের গুণকে অপেক্ষা করেই দ্বিজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ বর্ণাভিষিক্ত করেছেন। এটি যথার্থই শাস্ত্রীয়বিধি সম্মত।
বর্তমানকালে কিছু নব্যহ্ন্দুগণ এই অনাদি পরম্পরালব্ধ বর্ণাশ্রমধর্মকে কলুষিত করার প্রয়াসে মাতা জবালাকে দাসী/বেশ্যা ইত্যাদি পরিচয় দিয়ে শাস্ত্রের বৈয়র্থ করে শ্রীচরণে নিরন্তর অপরাধ করে চলেছে। এদের থেকে দূরে থাকাই সমীচিন।]

অনন্তর তাঁহাকে উপনীত করিয়া চারিশত গো কে কৃশ ও দূর্ব্বল গো হইতে পৃথক করিয়া প্রদান করিলেন।
বলিলেন- “হে সত্যকাম! তুমি গো সমূহের অনুগমন কর।”
ভগবান সত্যকাম বলিলেন- “হে আর্য্য! ইহাদের সংখ্যা যাবৎকাল সহস্র নাহি হয় তাবৎকাল আমি প্রত্যাগমন করিব না।”
বহুকাল প্রবাস বাসকালে যৎ সময় গোসমূহ সহস্র সঙ্খ্যায় পরিণত হইল-
যাহাই হউক- মূল শ্লোকে পরিচারিণী আর বহু শব্দদ্বয় শুনিয়াই আধুনিক পণ্ডিতগণ জাবালাকে গণিকা বলিয়া স্থির করিয়াছেন। সত্যকাম মাতাকে আদর্শ স্ত্রী রূপে চিত্রায়িত করিতে না পারিলেও জন্ম মাহাত্ম্যকে অস্বীকার করিবার উদ্দেশ্যে তাঁহাকে অশাস্ত্রীয় বেশ্যা উপাধি প্রদান করিতেও নব্য পণ্ডিতগণ কুন্ঠিত হন নাই। সত্যকাম ও গৌতম কথোপকথন মূলক অধ্যায়খানি মূলত দুইটি বিষয়োপরি আলোকপাত করিয়াছে- শ্রদ্ধা ও তপস্যা। সত্যকাম শব্দখানির অর্থ- যিনি সত্য জ্ঞাত হইবার বাসনা করেন ও জাবালা শব্দের অর্থ হইল যিনি চঞ্চলা প্রকৃতির অধিকারিণী। সত্যকাম এর ব্রহ্মচর্য্য আচরণ করিতে বাসনা হইল কেন?
১/ সত্যকাম ঋষি আশ্রমের নিকটে বাস করিতেন। অতএব ঋষি নিকটে বালকগণকে যাইতে দেখিয়া তাঁহার ব্রহ্মচর্য্য আচরণে উৎসাহ আসিতে পারে। ব্রহ্মচর্য্যের কষ্ট কিরূপ তাহাও সত্যকাম পর্য্যবেক্ষণ অবশ্যই করিয়াছে। কিন্তু তাহা সন্দর্শনেও সত্যকামের উৎসাহে কমতি আইসে নাই। ব্রহ্মচর্য্যের সকল বিষয় সম্পর্কে তাঁহার সাধারণ জ্ঞানখানি অন্তত ছিল ইহা ধারণা করা যায়। নিত্তান্ত বয়স কম হইবার কারণে সত্যকাম এহেন বিষয়ে আগ্রহী হইয়াছে ইহা ধারণা অনুচিত। সত্য জানিবার বাসনা হইতেই তাঁহার ব্রহ্মচর্য্য আচরণ করিবার দৃঢ় নিশ্চয় আসিয়াছে।
২/ সত্যকাম ঋষি আশ্রমের নিকট বাস করিতেন ইহা ঘটনা আবহ দ্বারাই পরিষ্কার হইয়াছে।সত্যকাম ও তাঁহার জননীর বাসস্থান ঋষি আশ্রমের সন্নিকটেই ছিল। ঋষি আশ্রম নিকটে হইবার ফলেই সত্যকাম আশ্রমে যাইবার, আশ্রমের কার্য্যক্রম পর্য্যবেক্ষণ করিবার এরূপ সুযোগ পাইয়াছিল বলিয়া ধারণা। সত্যকামের মাতার চরিত্র ভ্রষ্ট হইলে তিনি কদাপিও ঋষি আশ্রমের নিকট বসবাস করিতেন না। প্রশ্ন উঠিতে পারে-সত্যকাম মাতা গণিকাবৃত্তি করিয়া অনুতপ্ত, তজ্জন্যই ঋষি আশ্রম নিকটে বাস করিতেছেন। ঋষিগণের আচার দর্শন কিংবা ধর্ম বাক্য শ্রবণ করিলে বড়জোর সান্তনা লাভ হইয়া থাকে। উহা অনুতাপের লক্ষণ নহে। উক্ত কারণ ভিন্নও ঊপনিষদের কাহিনীতে বা বিবরণে এরূপ কোন ইঙ্গিত এর অস্তিত্ব নাই যাহা দ্বারা ইহা প্রতিপন্ন হইতে পারে যে সত্যকাম মাতা গণিকা ছিল। পুনঃ প্রশ্ন উঠিতে পারে- তিনি যৌবনকালে উদর দায়ে বেশ্যাবৃত্তি করিয়াছেন। কিন্তু বৈদিক যুগে এরূপ উদরের দায়ে বেশ্যাবৃত্তিকে পেশা রূপে গ্রহণ করিবে ইহা আশ্চর্য্যজনক! বৈদিক যুগে এরূপ ঘটনা ঘটিলে যুগ মাহাত্ম্য বা বেদের প্রভাবান্বিত সমাজের আর কোনরূপ মূল্য থাকিবে না। অন্তত নারী উদরের ভরপোষণ জন্য বেশ্যাবৃত্তি করিবে ইহা চিন্তা করা কষ্টের বৈকি। যে যুগে নারায়ণ রূপে অতিথি সেবা করা হইত, পশু পক্ষী ইত্যাদি অবলা জীবকেও খাদ্যাদি প্রদান করা হইত, যজ্ঞ কারণে যে যুগে ধরণীতে সদা অন্নপূর্ণা বাস করিতেন সে যুগে সত্যকাম মাতা উদর বৃত্তি সাধনে গণিকা বৃত্তি করিয়াছেন এ যুক্তি নিত্তান্তই হাস্যকর। তবে পুনরায় প্রশ্ন আইসে- সত্যকাম মাতা কি আপন কাম চরিতার্থে বেশ্যা বৃত্তি করিয়াছেন? প্রথমত আপন কাম চরিতার্থে বেশ্যা বৃত্তি করিলে একটি সন্তান হইবার সম্ভাবনা নিত্তান্তই ক্ষীণ। দ্বিতীয়ত, বেশ্যা বৃত্তি করিলে জাবালা বহু সন্তানের অধিকারী হইতেন। কারণ উক্ত যুগে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করিবার কোন কারণ ছিল বলিয়া মনে হয় না, আর বেশ্যা হইতে বহু সন্তান উৎপন্ন হইলেও তাঁহার লজ্জার কোন প্রকার কারণ নাই। বহু লোকের মনোরঞ্জন করিয়া শুধু সত্যকামকে লাভ করিয়াছে ইহাও বিশ্বাস করা শক্ত বটে।
৩/ সত্যকাম মাতার ধর্ম প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ছিল। পুত্রের ব্রহ্মচর্য্য বিষয়ক ইচ্ছা শ্রবণ করিবার পর তিনি হৃষ্টচিত্তে সত্যকামকে ঋষি নিকট ব্রহ্মচর্য্য করিবার আজ্ঞা প্রদান করেন। ইহা দ্বারা প্রতিপন্ন হয় যে সত্যকাম মাতা ব্রহ্মচর্য্যকে ধর্ম বলিয়াই জানিতেন ও এরূপ প্রকার ধর্মের আচরণকে তিনি পূণ্যজনক বলিয়া মনে করিতেন। যিনি বেশ্যাবৃত্তি করিয়া জীবন অতিবাহিত করিয়াছেন যিনি ব্রহ্মচর্য্য নামক আচরণকে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করিয়াছেন তিনি আপন গর্ভজাত পুত্রকে কৌতুক কারণে ব্রহ্মচর্য্য করিবার আদেশ প্রদান করিবেন ইহা মানিতে পারা যায় না। যদি সত্যকাম মাতার অন্ন সংস্থানেই কষ্ট হইত তবে পুত্রকে তিনি উপার্জ্জন করিবার উপদেশ দিতেন। ক্ষুদার্ত উদর লইয়া ধর্ম রক্ষা করা সম্ভব নহে। শরীর রক্ষা করিয়াই ধর্ম রক্ষা ও প্রতিষ্ঠা করিতে হয়। সমস্যা হইল- উক্ত সত্যকাম ও জাবালা সংবাদে নব্যপণ্ডিতগণ চলচ্চিত্রের মুখরোচক ঘটনা সকল আরোপ করিয়া থাকেন। বেশ্যাপুত্র ইঞ্জিনীয়ার হইয়া, ডাক্তার হইয়া দেশ ও জনের সেবা করিতেছে এসমস্ত আকাশ কুসুম কল্পনা করেন আর তাহাকেই সত্য ভাবিয়া ঘটনার তদ্রুপ বিশ্লেষণে প্রবৃত্ত হন। কদাচিৎ ভাগ্যক্রমে বেশ্যা পুত্র ডাক্তার ইঞ্জিনীয়ার হইলেও, বেশ্যাপুত্র ব্রহ্মবিদ হইয়া যাইবে- ইহা চিন্তা করা অতীব কষ্টকর। সত্যকামের মাতা অত্যন্ত সতী ও সদচ্চরিত্রের রমণী; সত্যকামের দৃঢ় স্বভাব, মাতার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও তাঁহার মাতার ব্রহ্মচর্য্য প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়া,-ইহাই প্রতিপন্ন হয়।

সত্যকাম জাবাল এর জন্ম মীমাংসা

সত্যকাম জাবাল এর জন্ম মীমাংসা

সত্যকাম জাবাল এর জন্ম মীমাংসা

Written by: Protap Chakraborty

Rate it
Previous post
Sanatan Religion

today20 April, 2022

  • 24
  • 1
close

Sanaton Protap Chakraborty

যাজনাদির অধিকার শুধুমাত্র ব্রাহ্মণেরই

কলিতে অনেকেই শাস্ত্রকর্তা, বিধায়ক-অবশিষ্ট অতীর আচার্য্যগণ এইসব বাবুমহাশয়দের বিচারে, শাস্ত্র বিরোধী অপোগন্ডব্ব মূর্খ হিসেব্ব সম্মাননা লাভ করেছেন বড়ই দুঃখজনক যে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে অতীতের শিক্ষা পদ্ধতিতে লাভকৃত স্নাতক উপাধির ...